সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলায় ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১০টায় সারাদেশের সঙ্গে একযোগে এ ফল প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত ফলাফলে উপজেলার মাধ্যমিক পর্যায়ের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাফল্যের ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে।
জকিগঞ্জ উপজেলার ২৩টি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রাপ্ত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, পাসের হারে এগিয়ে রয়েছে শাহবাগ স্কুল অ্যান্ড কলেজ। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৮১ দশমিক ০৮ শতাংশ। তবে প্রতিষ্ঠানটি থেকে কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেনি।

পাসের হারে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে লুৎফুর রহমান স্কুল অ্যান্ড কলেজ। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৭৯ দশমিক ৭৬ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে একজন শিক্ষার্থী। শেরুলবাগ উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে পাসের হার ৭৮ দশমিক ৪৩ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে একজন।
গুরুসদয় স্কুল অ্যান্ড কলেজে পাসের হার ৭৪ দশমিক ০৭ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটি থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে পাঁচজন শিক্ষার্থী। কাজী আব্দুল খালিক উচ্চ বিদ্যালয়ের পাসের হার ৭৩ দশমিক ৫৮ শতাংশ; তবে কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পায়নি।
জকিগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে পাসের হার ৭০ দশমিক ২০ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ছয়জন। সীমান্তিক ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে পাসের হার ৬৯ দশমিক ৩৫ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে দুজন। ঈদগাহবাজার উচ্চ বিদ্যালয়ে পাসের হার ৬৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে দুজন।
গোলাম মোস্তফা চৌধুরী একাডেমির পাসের হার ৬৫ দশমিক ৪৮ শতাংশ। জোবেদ আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পাসের হার ৬৩ দশমিক ২৯ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে পাঁচজন। মৌলভী ছাইর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে পাসের হার ৫৯ দশমিক ৬০ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে একজন।
ওয়াজেদ আলী মজুমদার উচ্চ বিদ্যালয়ে পাসের হার ৫৫ দশমিক ২৯ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে একজন। আব্দুর রাজ্জাক স্মৃতি বিদ্যানিকেতনে পাসের হার ৫৫ দশমিক ২৬ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে একজন। বারহাল এহিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পাসের হার ৫৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে একজন।
হাফিজ মজুমদার বিদ্যানিকেতনে পাসের হার ৫৩ দশমিক ৭৪ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে তিনজন। জকিগঞ্জ গার্লস হাই স্কুলেও পাসের হার ৫৩ দশমিক ৭৪ শতাংশ, তবে কোনো জিপিএ-৫ নেই।
এম.আর. মজুমদার বিদ্যানিকেতনে পাসের হার ৫০ দশমিক ৩১ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে চারজন। সোনাসার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পাসের হার ৪৯ দশমিক ১৮ শতাংশ; কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পায়নি।
জিপিএ-৫ পাওয়ার দিক থেকে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে সাজ্জাদ মজুমদার বিদ্যানিকেতন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৪৮ দশমিক ৭৭ শতাংশ হলেও জিপিএ-৫ পেয়েছে সর্বোচ্চ নয়জন শিক্ষার্থী।
ইমদাদ মজুমদার বিদ্যানিকেতনে পাসের হার ৪৮ দশমিক ৭৩ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে একজন। গনিপুর কামালগঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজে পাসের হার ৪৭ দশমিক ৮৭ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে একজন।
জকিগঞ্জ সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে পাসের হার ৩৯ দশমিক ০৪ শতাংশ। ইছামতি উচ্চ বিদ্যালয়ে পাসের হার ৩৮ দশমিক ৬৪ শতাংশ এবং কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পায়নি।
জানা গেছে, চলতি বছর জকিগঞ্জ উপজেলায় এসএসসি পরীক্ষায় ১ হাজার ৫৪৫ জন, দাখিল পরীক্ষায় ৬৯৫ জন এবং এসএসসি ভোকেশনাল শাখায় ১১৯ জন শিক্ষার্থী রেজিস্ট্রেশন করে পরীক্ষায় অংশ নেয়।
ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, পাসের হারে শাহবাগ স্কুল অ্যান্ড কলেজ এগিয়ে থাকলেও জিপিএ-৫ অর্জনে সবচেয়ে ভালো করেছে সাজ্জাদ মজুমদার বিদ্যানিকেতন। ফলে পাসের হার ও সর্বোচ্চ গ্রেড দুই সূচকেই জকিগঞ্জের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ফলাফলে ভিন্ন ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে।
Leave a Reply