জকিগঞ্জ উপজেলায় মাসুদ আহমদ (১৫) নামের এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেল তিনটার দিকে উপজেলার কাজলসার ইউনিয়নের গোটারগ্রাম থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
মৃত মাসুদ আহমদ গোটারগ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হালিম আদুল মিয়ার ছোট ছেলে। পরিবারের ভাষ্যমতে, মাসুদ জন্মগতভাবে মানসিকভাবে কিছুটা অসুস্থ ছিল এবং পড়াশোনা করত না। মাঝেমধ্যে সে গ্রামের পুরোনো কবরস্থানে গিয়ে একা সময় কাটাত।
পরিবারের সদস্যরা জানান, বৃহস্পতিবার জোহরের ওয়াক্তের সময় মাসুদ বাড়ির পাশে মাছ ধরতে যায়। মাছ ধরে বাড়িতে ফিরে সেগুলো পরিবারের কাছে দিয়ে সে নিজের ঘরের একটি কক্ষে ঢুকে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে নেয়। প্রথমে পরিবারের ধারণা ছিল, সে হয়তো ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে।
কিছুক্ষণ পর ঘরের ভেতর নড়াচড়া বুঝতে পেরে সন্দেহ হলে পরিবারের লোকজন জানাল দিয়ে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। দ্রুত দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে রওয়ানা হলে পথে তার মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে জকিগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুজন মিয়া ও উপপরিদর্শক (এসআই) মিরাজ হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের দাবি, কিশোরটি মানসিকভাবে অসুস্থ থাকায় এ ঘটনায় তাদের কোনো অভিযোগ নেই। তবে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফনের অনুমতি চেয়েছিল পরিবার।
এ বিষয়ে জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতেই মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে এবং সেই অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Leave a Reply