জকিগঞ্জে আকস্মিক এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দুটি পরিবারের বসতঘর সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়েছে। আগুনে ঘরগুলোর ভেতরে থাকা আসবাবপত্র, পরিধেয় বস্ত্র, খাদ্যসামগ্রী ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ সমস্ত মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দাবি, এই দুর্ঘটনায় তাদের প্রায় চার লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার কাজলসার ইউনিয়নের আটগ্রাম এলাকার নওয়াগ্রামের পীরকোণায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নওয়াগ্রামের বাসিন্দা রুশনা বেগম ও তাঁর প্রতিবেশী আব্দুল কাদিরের বাড়িতে হঠাৎ করেই আগুনের সূত্রপাত হয়। তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে। কারো ধারণা, রুশনা বেগমের স্বামী ডালু মিয়ার সিগারেটের আগুন থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে; আবার তীব্রতা ও দ্রুত বিস্তার দেখে অনেকের ধারণা, শর্টসার্কিট বা বৈদ্যুতিক ত্রুটির কারণেও আগুন লেগে থাকতে পারে।
সন্ধ্যায় মুহূর্তের মধ্যে আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং নিজ উদ্যোগে তা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালান। কিন্তু আগুনের লেলিহান শিখা এতটাই তীব্র ছিল যে, রুশনা বেগম ও আব্দুল কাদিরের বসতঘর দুটি রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।
খবর পেয়ে দ্রুত জকিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয় জনগনের সহযোগিতায় দীর্ঘ চেষ্টার পর আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা বদরুল মুহুরী জানান, “আগুন লাগার পরপরই তা মুহূর্তের মধ্যে পুরো বাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে। আমরা তাৎক্ষণিকভাবে আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও আগুনের তীব্রতার কারণে ঘরগুলো বাঁচানো যায়নি।”
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জকিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের লিডার কামাল পাশা জানান, অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাতের সুনির্দিষ্ট কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সময়মতো পৌঁছানোর কারণে আশপাশের অন্য বাড়িগুলো রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। এ ঘটনায় দুটি পরিবারের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে দ্রুত সহায়তার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
Leave a Reply