জকিগঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ শেওলা সড়কের সংস্কার ও উন্নয়ন কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে দায়সারাভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করছেন স্থানীয়রা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের এমন খামখেয়ালিপনা ও অনিয়মের প্রতিবাদে ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে জকিগঞ্জ-শেওলা সড়কটি বেহাল পড়ে থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছিল এই রুটে চলাচলকারী হাজারো মানুষকে। অবশেষে সড়কটির সংস্কার কাজ শুরু হলে জনমনে স্বস্তি ফিরে আসলেও, সেই স্বস্তি বেশি দিন টেকেনি। কাজ শুরুর পর থেকেই নানা অনিয়ম ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠতে শুরু করে।
২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ভেঙে যাচ্ছে আস্তর:
সরেজমিনে দেখা যায়, রাস্তার কাজের জন্য দুই পাশে ইটের এজিং দিয়ে গার্ড ওয়ালের কাজ করা হলেও ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়ার আগেই তার আস্তর ভেঙে যাচ্ছে। বীরশ্রী ইউনিয়নের মাসুম বাজারের পূর্ব পার্শ্বে কাজটির এমন বেহাল দশা দেখতে পান এলাকাবাসী। নামমাত্র উপকরণ ও অপরিকল্পিতভাবে এই কাজ করায় কাজের টেকসই নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
নিম্নমানের ইট ও ফেসবুকে তোলপাড়:
এর আগে গত ১২ অক্টোবর একই ইউনিয়নের জামডহর এলাকার স’মিলের সামনে ঠিকাদার মোস্তাক আহমদকে প্রকাশ্যে নিম্নমানের ইট ব্যবহার করতে দেখেন স্থানীয়রা। বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ধারণ করা একটি ফেসবুক লাইভ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নেট দুনিয়ায় ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়। ঠিকাদারের এমন স্বেচ্ছাচারিতায় স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, কাজের শুরু থেকেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকির অভাবকে কাজে লাগিয়ে হরিলুটে মেতে উঠেছে। প্রাক্কলন বা শিডিউল অনুযায়ী কাজ না করে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে।
স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু হলেও ঠিকাদারদের অনিয়মের কারণে আমাদের দুর্ভোগ তো কমছেই না, বরং কাজের শুরুতেই তা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সরকারি বরাদ্দের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”
এ বিষয়ে সচেতন মহল অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। অন্যথায় দ্রুত কাজ বন্ধ করে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
Leave a Reply