সিলেটের গুরুত্বপূর্ণ জকিগঞ্জ-শেওলা সড়কের সংস্কার কাজে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে চরম অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির সংস্কার কাজে নিয়মের তোয়াক্কা না করে প্রকাশ্যে নিম্নমানের ইট ও খোয়া ব্যবহারের প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী। ইতোমধ্যে এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনার ঝড় এবং প্রতিবাদের নানা পোস্ট।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বেহাল দশায় থাকা জকিগঞ্জ-শেওলা সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার সাধারণ মানুষ ও যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করে। অবশেষে গত ৮অক্টোবর সড়কটির সংস্কার কাজের শুভ উদ্বোধন হলে এলাকাবসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে। তবে সম্প্রতি সংস্কারকাজে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কর্তৃক গ্রেড বা নামমাত্র মানের ইট এবং পচা খোয়া ব্যবহার করার দৃশ্য স্থানীয় লোকজনের নজরে আসে।
অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও তদারকি কর্মকর্তাদের যোগসাজশেই নিয়মের তোয়াক্কা না করে নামসর্বস্ব ইট দিয়ে দায়সারাভাবে কাজ চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এভাবে কাজ করা হলে অল্প কিছুদিন পরই সড়কটি আবার আগের মতো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
ফেসবুক লাইভে ঠিকাদার ও প্রকৌশলীর পলায়ন: ১২ অক্টোবর সোমবার বিকেল ৫টার দিকে ফেসবুকে ‘Minhajul islam’ নামের একটি আইডি থেকে জামডহর এলাকার স’মিল এরিয়ায় রাস্তার কাজের জন্য সংরক্ষিত ইট ও তার পাশে অবস্থানরত ঠিকাদার মোস্তাক আহমদ চেয়ারম্যানকে লাইভে ধারণ করা হয়। এ সময় লাইভকারীকে বলতে শোনা যায়—‘ঠিকাদার সাহেব, এই ইটগুলো নিম্নমানের কেন?’
লাইভে দেখা গেছে এ প্রশ্নের কোনো সদুত্তর না দিয়ে ঠিকাদার মোস্তাক আহমদ দ্রুত একটি সিএনজিতে করে ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। একইভাবে সেখানে উপস্থিত প্রকৌশলীকেও এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনিও কোনো সঠিক উত্তর না দিয়ে সটকে পড়েন। এই লাইভ ভিডিওটি মুহূর্তের মধ্যে নেট দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, সংস্কারকাজে যে ইটগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে, তা মানদণ্ড অনুযায়ী অত্যন্ত নিম্নমানের এবং হাতে ধরলেই ভেঙে যাচ্ছে। এসব পোস্টে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত হস্তক্ষেপ করে নিম্নমানের সামগ্রী অপসারণ এবং কাজের মান নিশ্চিত করার জোর দাবি জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা বলেন, “জনগণের করের টাকায় বাস্তবায়িত উন্নয়নমূলক কাজে এ ধরনের লুটপাট ও অনিয়ম কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অবিলম্বে এই কাজের মান যাচাই করে নিম্নমানের ইট অপসারণ করতে হবে এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।”
এলাকাবাসী ও সামাজিক মাধ্যমের এই তীব্র প্রতিবাদের পর সংশ্লিষ্ট বিভাগ কিংবা স্থানীয় প্রশাসনের টনক নড়ে কি না এবং তারা কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
Leave a Reply