প্রধান অভিযোগসমূহ
মানববন্ধনে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আনন্দপুর গ্রামের শাহেদ আহমদের বাড়ি থেকে খখই মিয়ার বাড়ি পর্যন্ত সংযোগ সড়কটি গত প্রায় ১০ বছর ধরে অবহেলিত রয়েছে। সড়কটির সংস্কার ও উন্নয়নের জন্য স্থানীয় ইউপি সদস্য শিহাব উদ্দিনের মাধ্যমে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হলেও পরবর্তীতে তা অজ্ঞাত কারণে অন্য এলাকায় স্থানান্তরিত করা হয়।
এছাড়া, ইউপি সদস্য নাঈমা জান্নাতের তদারকিতে শিমুলতা স্কুলের সামনে থেকে আব্দুল মন্নানের বাড়ি পর্যন্ত ১ লাখ টাকার আরেকটি প্রকল্প নেওয়া হলেও চেয়ারম্যান নিজেই সেই কাজ তড়িঘড়ি করে বাস্তবায়ন করেছেন বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।
প্রশাসনের ভূমিকা ও স্থানীয়দের ক্ষোভ
বক্তারা জানান, প্রকল্পের স্থান পরিবর্তনের বিষয়টি পূর্বে জকিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), উপজেলা প্রশাসন ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয়কে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছিল। প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণের পরও অদৃশ্য কারণে অন্য এলাকায় কাজ বাস্তবায়ন করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির সংস্কার না হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে স্থানীয়দের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
মানববন্ধনে ইউনিয়ন পরিষদের হোল্ডিং ট্যাক্স ও করের টাকা আত্মসাতের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে ধরে বিভিন্ন দপ্তরে দেওয়া লিখিত অভিযোগের অনুলিপি প্রদর্শন করা হয়। এলাকাবাসীর দাবি, এসব অনিয়মের বিষয়ে কোনো ধরনের সমঝোতা না করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। জানা গেছে, অভিযোগ ধামাচাপা দিতে চেয়ারম্যান বিভিন্ন মাধ্যমে সমঝোতার চেষ্টা চালিয়ে এলাকায় ২ লাখ টাকা বরাদ্দের আশ্বাস দিয়েছেন।
সেবামূলক কার্যক্রমে অনিয়ম
স্থানীয়রা আরও অভিযোগ করেন, সুলতানপুর ইউনিয়নে বরাদ্দকৃত অধিকাংশ উন্নয়ন কাজ চেয়ারম্যানের নিজ গ্রাম গোয়াবাড়ী এলাকায় কেন্দ্রীভূত করা হয়েছে। এ ছাড়া চেয়ারম্যান নিয়মিত ইউনিয়ন পরিষদে উপস্থিত থাকেন না, যার ফলে জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধনসহ বিভিন্ন নাগরিক সেবা নিতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে নিয়মিত হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।
মাহতাব উদ্দিন ও জিয়াউর রহমানের যৌথ সঞ্চালনায় এবং স্থানীয় মুরব্বি খখই মিয়ার সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন হাফেজ মাওলানা সালিক আহমদ, মুসলেহ উদ্দিন, আবুল মনসুর শাহেদ, আবুল কালাম, আতাউর রহমান, মখলিছুর রহমান, আবদুল গফুর ও হারুন আহমদসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
Leave a Reply